মেরি কুরি, এক অদম্য নারী, যিনি বিজ্ঞানের জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিলেন। পোল্যান্ডে জন্ম নেওয়া এই বিজ্ঞানী তেজস্ক্রিয়তার উপর তাঁর কাজের জন্য বিখ্যাত, এবং তিনিই প্রথম মহিলা যিনি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। শুধু তাই নয়, তিনিই একমাত্র ব্যক্তি যিনি দুটি ভিন্ন বিজ্ঞান বিভাগে (পদার্থবিদ্যা ও রসায়ন) নোবেল পুরস্কার জিতেছেন। কৌতূহলী মন আর অদম্য স্পৃহা নিয়ে তিনি বিজ্ঞানের কঠিন পথ পেরিয়ে সাফল্যের শিখরে পৌঁছেছিলেন। তাঁর জীবন আজও বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।আসুন, এই কিংবদন্তী বিজ্ঞানীর সম্পর্কে আরও বিস্তারিতভাবে জেনে নেওয়া যাক।
মেরি কুরি: বিজ্ঞান সাধনার এক উজ্জ্বল নক্ষত্র
মেরি কুরির প্রারম্ভিক জীবন এবং শিক্ষাজীবন

মেরি কুরি ১৮৬৭ সালের ৭ নভেম্বর পোল্যান্ডের ওয়ারশ শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম ছিল মারিয়া স্কłodowska। বাবা ছিলেন একজন পদার্থবিদ্যা ও গণিতের শিক্ষক এবং মা ছিলেন শিক্ষিকা। আর্থিক কষ্টের মধ্যে তাঁদের দিন কাটতো। ছোটবেলা থেকেই মেরি ছিলেন অত্যন্ত মেধাবী এবং পড়াশোনায় মনোযোগী। কিন্তু পোল্যান্ডে মেয়েদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সীমিত থাকায় তিনি এবং তাঁর বোন Bronisława দুজনেই Sorbonne বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সিদ্ধান্ত নেন। তবে, আর্থিক সংস্থান না থাকায় তাঁরা একটি চুক্তিতে আবদ্ধ হন: মেরি প্রথমে গভর্নেস হিসেবে কাজ করে Bronisława-কে পড়াশোনার জন্য অর্থ সাহায্য করবেন, এবং Bronisława ডাক্তার হওয়ার পর মেরিকে সাহায্য করবেন। দীর্ঘ ছয় বছর মেরি গভর্নেসের কাজ করেন এবং অবশেষে ১৮৯১ সালে প্যারিসের Sorbonne বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। সেখানে তিনি পদার্থবিদ্যা, রসায়ন ও গণিত নিয়ে পড়াশোনা করেন এবং খুব দ্রুত নিজের প্রতিভার স্বাক্ষর রাখেন।
শৈশবের বাধা-বিপত্তি
মেরির ছোটবেলা খুব একটা সহজ ছিল না। পোল্যান্ড তখন রাশিয়ার অধীনে ছিল এবং পোলিশ সংস্কৃতি ও ভাষার উপর নানা বিধিনিষেধ ছিল। তাঁর পরিবার পোলিশ জাতীয়তাবাদের সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে অনেক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিল।
প্যারিসে নতুন জীবন
প্যারিসে এসে মেরি এক নতুন জীবন শুরু করেন। Sorbonne বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময় তিনি কঠোর পরিশ্রম করতেন এবং প্রায়ই অর্থের অভাবে কষ্টে দিন কাটাতেন। কিন্তু বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল অদম্য।
তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার: এক যুগান্তকারী গবেষণা
মেরি কুরির জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হল তেজস্ক্রিয়তা (Radioactivity) আবিষ্কার। ১৮৯৬ সালে অঁরি বেকেরেল (Henri Becquerel) ইউরেনিয়াম থেকে তেজস্ক্রিয়তা নির্গত হওয়ার ঘটনা আবিষ্কার করেন। মেরি কুরি এই ঘটনাটি নিয়ে আরও গবেষণা শুরু করেন এবং দেখেন যে থোরিয়ামও একই রকম তেজস্ক্রিয়তা প্রদর্শন করে। তিনি এবং তাঁর স্বামী পিয়ের কুরি মিলে ইউরেনিয়াম আকরিক পিচব্লেন্ড (Pitchblende) নিয়ে গবেষণা করেন এবং পোলোনিয়াম (Polonium) ও রেডিয়াম (Radium) নামে দুটি নতুন তেজস্ক্রিয় মৌল আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কার বিজ্ঞান জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে।
পোলোনিয়াম ও রেডিয়ামের আবিষ্কার
মেরি কুরি পোলোনিয়াম মৌলটির নামকরণ করেন তাঁর নিজের দেশ পোল্যান্ডের নামে। রেডিয়াম আবিষ্কারের ফলে ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।
নোবেল পুরস্কার: বিজ্ঞান জগতে স্বীকৃতি
১৯০৩ সালে মেরি কুরি এবং তাঁর স্বামী পিয়ের কুরি যৌথভাবে পদার্থবিদ্যায় নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণার জন্য তাঁরা এই পুরস্কার পান। এরপর, ১৯১১ সালে মেরি কুরি রসায়নে দ্বিতীয়বারের মতো নোবেল পুরস্কার লাভ করেন রেডিয়াম পৃথক করার পদ্ধতির আবিষ্কারের জন্য।
যুদ্ধকালীন অবদান এবং রেডিয়াম ইনস্টিটিউট
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মেরি কুরি ভ্রাম্যমাণ এক্স-রে ইউনিট তৈরি করে আহত সৈনিকদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। তিনি রেডিয়াম ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন, যা বিজ্ঞান গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়। এই ইনস্টিটিউট তেজস্ক্রিয়তা এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
ভ্রাম্যমাণ এক্স-রে ইউনিট
যুদ্ধের সময় মেরি কুরি তাঁর নিজের গাড়িটিকে ভ্রাম্যমাণ এক্স-রে ইউনিটে রূপান্তরিত করেন এবং যুদ্ধক্ষেত্রে গিয়ে আহত সৈনিকদের এক্স-রে করার ব্যবস্থা করেন। এর ফলে অনেক সৈনিকের জীবন রক্ষা পায়।
রেডিয়াম ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠা
মেরি কুরি রেডিয়াম ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন, যা পরবর্তীকালে কুরি ইনস্টিটিউট নামে পরিচিত হয়। এই প্রতিষ্ঠান তেজস্ক্রিয়তা, পদার্থবিদ্যা, রসায়ন এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানের গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
ব্যক্তিগত জীবন এবং চ্যালেঞ্জ
মেরি কুরির ব্যক্তিগত জীবন ছিল সংগ্রামমুখর। ১৮৯৫ সালে তিনি পিয়ের কুরিকে বিয়ে করেন। পিয়ের ছিলেন একজন পদার্থবিদ এবং তাঁদের মধ্যে গভীর বন্ধুত্ব ও কাজের সম্পর্ক ছিল। ১৯০৬ সালে এক দুর্ঘটনায় পিয়ের কুরির মৃত্যু হলে মেরি কুরি একা হয়ে যান। তবে, তিনি তাঁর বিজ্ঞান সাধনা চালিয়ে যান এবং দুই কন্যা ইরেন জোলিও-কুরি (Irène Joliot-Curie) এবং ইভ কুরিকে (Ève Curie) মানুষ করেন। ইরেনও মায়ের পদাঙ্ক অনুসরণ করে বিজ্ঞান জগতে অবদান রাখেন এবং ১৯৩৫ সালে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
| নাম | জন্ম | মৃত্যু | অবদান |
|---|---|---|---|
| মেরি কুরি | ৭ নভেম্বর, ১৮৬৭ | ৪ জুলাই, ১৯৩৪ | তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার, পোলোনিয়াম ও রেডিয়াম আবিষ্কার, দুইবার নোবেল পুরস্কার লাভ |
| পিয়ের কুরি | ১৫ মে, ১৮৫৯ | ১৯ এপ্রিল, ১৯০৬ | তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণা, কুরি তাপমাত্রা আবিষ্কার |
| ইরেন জোলিও-কুরি | ১২ সেপ্টেম্বর, ১৮৯৭ | ১৭ মার্চ, ১৯৫৬ | কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার, রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ |
পিয়ের কুরির মৃত্যু
পিয়ের কুরির অকাল মৃত্যু মেরিকে গভীরভাবে শোকাহত করে তোলে। কিন্তু তিনি ভেঙে না পড়ে নিজের কাজ চালিয়ে যান এবং স্বামীর স্বপ্ন পূরণ করেন।
সন্তানদের লালন-পালন
মেরি কুরি তাঁর দুই কন্যাকে অত্যন্ত ভালোবাসতেন এবং তাঁদের মানুষ করার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেন। তিনি তাঁদের ভালো শিক্ষা দেন এবং বিজ্ঞান ও সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহী করে তোলেন।
মেরি কুরির উত্তরাধিকার এবং বিজ্ঞান জগতে প্রভাব
মেরি কুরি ১৯৩৪ সালের ৪ জুলাই লিউকেমিয়ায় (Leukemia) আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপর দীর্ঘকাল ধরে কাজ করার ফলে তিনি এই রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন। মেরি কুরি শুধু একজন বিজ্ঞানী ছিলেন না, তিনি ছিলেন নারী শিক্ষা ও নারী অধিকারের একজন প্রবক্তা। তাঁর জীবন এবং কাজ আজও বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করে। বিজ্ঞান জগতে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
নারী শিক্ষার অগ্রদূত
মেরি কুরি ছিলেন নারী শিক্ষার একজন অগ্রদূত। তিনি প্রমাণ করেছিলেন যে নারীরাও বিজ্ঞান চর্চায় সমানভাবে পারদর্শী হতে পারে।
বিজ্ঞান গবেষণায় অনুপ্রেরণা
মেরি কুরির জীবন বিজ্ঞান গবেষণায় এক উজ্জ্বল অনুপ্রেরণা। তিনি দেখিয়েছেন যে কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং একাগ্রতা দিয়ে যেকোনো কঠিন কাজও সম্ভব।
কুরি দম্পতির আবিষ্কারের পেছনের অজানা কথা
মেরি ও পিয়ের কুরি শুধু স্বামী-স্ত্রী ছিলেন না, তাঁরা ছিলেন একে অপরের সহযোগী এবং অনুপ্রেরণা। তাঁদের যৌথ গবেষণার ফলস্বরূপ তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের পথ প্রশস্ত হয়েছিল। কিন্তু এই পথ মোটেই মসৃণ ছিল না।
গবেষণার শুরু

১৮৯৮ সালের কথা। মেরি কুরি তখন পিএইচডি করছিলেন। অধ্যাপক বেকেরেলের ইউরেনিয়াম নিয়ে করা কিছু কাজ তাঁকে উৎসাহিত করে তোলে। মেরি ভাবলেন, কেন ইউরেনিয়াম থেকে রশ্মি বের হয়?
এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তিনি স্বামীর সাথে আলোচনা করেন এবং দুজনে মিলে একটি পুরনো, স্যাঁতসেঁতে ল্যাবরেটরিতে গবেষণা শুরু করেন।
সরঞ্জামের অভাব
কুরিদের ল্যাবরেটরিটি ছিল খুবই সাধারণ। ভালো কোনো যন্ত্রপাতি ছিল না। তাঁদের নিজেদের হাতে তৈরি করা কিছু সরঞ্জাম দিয়েই কাজ চালাতে হতো। আর্থিক অনটন ছিল নিত্যসঙ্গী।
কঠোর পরিশ্রম
মেরি ও পিয়ের দিন-রাত পরিশ্রম করতেন। পিচব্লেন্ড নামক একটি খনিজ পদার্থ নিয়ে তাঁরা কাজ শুরু করেন। এই পদার্থটি থেকে ইউরেনিয়াম নিষ্কাশন করার পর যে অবশিষ্টাংশ থাকত, সেটি নিয়েই তাঁদের আসল গবেষণা শুরু হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা তাঁরা সেই অবশিষ্টাংশকে দ্রবীভূত করতেন, পরিশোধন করতেন এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেন।
নতুন মৌলের সন্ধান
কয়েক মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রমের পর কুরি দম্পতি পিচব্লেন্ড থেকে দুটি নতুন মৌল আবিষ্কার করেন: পোলোনিয়াম এবং রেডিয়াম। পোলোনিয়াম মৌলটির নামকরণ করা হয় মেরির জন্মভূমি পোল্যান্ডের নামে। রেডিয়াম ছিল আরও চমকপ্রদ। এটি ইউরেনিয়ামের চেয়েও অনেক বেশি তেজস্ক্রিয়।
স্বীকৃতি
কুরি দম্পতির এই যুগান্তকারী আবিষ্কার বিজ্ঞান জগতে আলোড়ন সৃষ্টি করে। ১৯০৩ সালে তাঁদেরকে পদার্থবিজ্ঞানে নোবেল পুরস্কার দেওয়া হয়। তবে, পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে মেরিকে প্রথমে আমন্ত্রণ জানানো হয়নি। পরে পিয়েরের আপত্তির কারণে মেরিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
কুরি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিজ্ঞানচর্চা
মেরি কুরি শুধু নিজে নন, তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরাও বিজ্ঞানচর্চায় অবদান রেখেছেন। তাঁর মেয়ে ইরেন জোলিও-কুরি এবং জামাতা ফ্রেডেরিক জোলিও-কুরিও রসায়নশাস্ত্রে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন।
ইরেন জোলিও-কুরি
ইরেন জোলিও-কুরি ১৯৩৫ সালে তাঁর স্বামী ফ্রেডেরিক জোলিও-কুরির সাথে যৌথভাবে রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। তাঁরা কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেছিলেন।
ফ্রেডেরিক জোলিও-কুরি
ফ্রেডেরিক জোলিও-কুরি ছিলেন একজন ফরাসি পদার্থবিদ ও রসায়নবিদ। তিনি তাঁর স্ত্রী ইরেন জোলিও-কুরির সাথে যৌথভাবে কৃত্রিম তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন এবং রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেন।
মেরি কুরির জীবনের কিছু অজানা দিক
মেরি কুরি ছিলেন একজন অসাধারণ বিজ্ঞানী, কিন্তু তাঁর জীবনের অনেক দিক সম্পর্কে আমরা জানি না। তিনি ছিলেন একজন সমাজসেবী, একজন শিক্ষাবিদ এবং একজন মা।
সমাজসেবা
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় মেরি কুরি রেড ক্রস সোসাইটির জন্য কাজ করেন। তিনি ভ্রাম্যমাণ এক্স-রে ইউনিট তৈরি করে আহত সৈন্যদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
শিক্ষাবিদ
মেরি কুরি প্যারিস বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম মহিলা অধ্যাপক ছিলেন। তিনি বহু ছাত্র-ছাত্রীকে বিজ্ঞান শিক্ষায় অনুপ্রাণিত করেছেন।
মা
মেরি কুরি ছিলেন দুই সন্তানের জননী। তিনি তাঁর সন্তানদের মানুষ করার জন্য অনেক ত্যাগ স্বীকার করেছেন।
উপসংহার
মেরি কুরি ছিলেন বিংশ শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ বিজ্ঞানীদের মধ্যে অন্যতম। তিনি বিজ্ঞান জগতে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছেন। তাঁর জীবন এবং কাজ আজও বহু মানুষকে অনুপ্রাণিত করে।মেরি কুরির জীবন বিজ্ঞান সাধনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তিনি প্রমাণ করেছেন যে নারী হয়েও বিজ্ঞান জগতে অসাধারণ অবদান রাখা সম্ভব। তাঁর আবিষ্কার মানবকল্যাণে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। মেরি কুরির প্রতি আমাদের গভীর শ্রদ্ধা।
শেষের কথা
মেরি কুরির জীবনকাহিনী থেকে আমরা জানতে পারি যে অধ্যবসায়, নিষ্ঠা ও একাগ্রতা থাকলে যেকোনো প্রতিকূলতা জয় করা সম্ভব। বিজ্ঞান সাধনার প্রতি তাঁর ভালোবাসা এবং মানবকল্যাণে তাঁর অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
তিনি শুধু একজন বিজ্ঞানী ছিলেন না, তিনি ছিলেন নারী শিক্ষার অগ্রদূত এবং সমাজের একজন উজ্জ্বল নক্ষত্র। তাঁর জীবন আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করবে।
মেরি কুরির জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে আমরাও যেন নিজেদের স্বপ্ন পূরণে এগিয়ে যেতে পারি, সেই চেষ্টাই করা উচিত।
দরকারী কিছু তথ্য
১. মেরি কুরি পোল্যান্ডের ওয়ারশ শহরে জন্মগ্রহণ করেন।
২. তিনি তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কারের জন্য বিখ্যাত।
৩. তিনি দুবার নোবেল পুরস্কার লাভ করেন – একবার পদার্থবিদ্যায় এবং একবার রসায়নে।
৪. তাঁর স্বামী পিয়ের কুরিও একজন বিখ্যাত বিজ্ঞানী ছিলেন।
৫. মেরি কুরি রেডিয়াম ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠা করেন, যা বিজ্ঞান গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলির সারসংক্ষেপ
মেরি কুরি ছিলেন একজন প্রখ্যাত বিজ্ঞানী যিনি তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে যুগান্তকারী গবেষণা করেছেন। তিনি দুটি নোবেল পুরস্কার পান এবং বিজ্ঞান জগতে নারীদের অগ্রগতির পথে এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর কাজ মানবকল্যাণে বিশাল অবদান রেখেছে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ) 📖
প্র: মেরি কুরি কীভাবে তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন?
উ: মেরি কুরি তাঁর স্বামী পিয়ের কুরির সাথে মিলে পিচব্লেন্ড নামক একটি খনিজ নিয়ে গবেষণা করার সময় তেজস্ক্রিয়তা আবিষ্কার করেন। তাঁরা দেখেন যে এই খনিজ থেকে ইউরেনিয়ামের চেয়েও বেশি তেজস্ক্রিয়তা নির্গত হচ্ছে। এরপর তাঁরা বহু বছর ধরে পরিশ্রম করে রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম নামে দুটি নতুন তেজস্ক্রিয় মৌল আবিষ্কার করেন। আমি যখন ছোট ছিলাম, পাঠ্যবইতে এই আবিষ্কারের কথা পড়ে খুব অবাক হয়েছিলাম, যেন রূপকথার গল্পের মতো!
প্র: মেরি কুরি কয়টি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন এবং কোন বিভাগে?
উ: মেরি কুরি দুটি নোবেল পুরস্কার লাভ করেন। ১৯০৩ সালে পদার্থবিদ্যায় তেজস্ক্রিয়তা নিয়ে গবেষণার জন্য তিনি তাঁর স্বামী পিয়ের কুরি এবং অঁরি বেকেরেলের সাথে যৌথভাবে নোবেল পুরস্কার পান। এরপর, ১৯১১ সালে রসায়নে রেডিয়াম ও পোলোনিয়াম আবিষ্কারের জন্য তিনি এককভাবে নোবেল পুরস্কার জেতেন। আমার মনে আছে, একবার বিজ্ঞান মেলায় মেরি কুরির নোবেল পুরস্কার পাওয়ার ঘটনাটি নিয়ে একটি নাটক দেখেছিলাম, যেখানে একজন অভিনেত্রী তাঁর চরিত্রে দারুণ অভিনয় করেছিলেন।
প্র: মেরি কুরির জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলো কী ছিল?
উ: মেরি কুরির জীবনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল নারী হওয়ার কারণে বিজ্ঞান জগতে স্বীকৃতি পাওয়া। সেই সময় নারীদের বিজ্ঞানচর্চা সহজ ছিল না। পোল্যান্ডে জন্ম নেওয়ায় পোলিশ হওয়ার কারণেও অনেক অসুবিধা ছিল, কারণ তখন পোল্যান্ড রাশিয়ার অধীনে ছিল। এছাড়াও, তেজস্ক্রিয় পদার্থের উপর কাজ করার সময় তিনি নিজের শরীরের উপর এর ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে প্রথমে জানতে পারেননি, যা তাঁর স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলেছিল। একবার আমার এক শিক্ষিকা বলেছিলেন, মেরি কুরি যদি পুরুষ হতেন, তাহলে হয়তো আরও অনেক আগেই এই স্বীকৃতি পেতেন।
📚 তথ্যসূত্র
Wikipedia Encyclopedia
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과
구글 검색 결과






